সমর আর সুমিত এবং তাদের সুড়ঙ্গ
সুমিত আর সমর দুই ভাই একই সাথে একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়ত, দুই ভাইয়ের মধ্যে খুবই ভাব। তারা একই সাথে স্কুলে যাওয়া আশা করতো। একই সাথে খেলা ধুলো করতো, পড়াশুনার প্রতি এবং নতুন কিছু শেখার নতুন জায়গা দেখবার প্রতি ছিল বিশেষ আগ্রহ। একদিন অগ্রহের বসে দু ভাইয়েতে একসাথে গ্রামের পুরোনো রাজবাড়িতে গেলো। তারা খেলার ছলে গুপ্তধনের সন্ধানে সেখানে গেলো। রাজবাড়িটি ছিল গ্রামের দক্ষিণ দিকে যা ইউ ক্যালিপ্টাস,শাল ও গোটা বিশেক আমগাছের জঙ্গলে ঘিরে ছিল, শুকনো খড়ির খোঁজে কখনো কৌ গেলেও সচরাচর সেখানে কৌ যেত না। সেদিন যখন দুই ভায়েতে সেখানে গেলো কোথাও কৌ ছিলোনা শুধু দুএকটা নামনাজানা পাখি কিচিরমিচির করে উড়ে বাড়াচ্ছিল।
চারিদিকে দুপুপুরের নিস্তব্ধতা, সমর আর সুমিত রাজবাড়ীর ভেঙে পরা গেটটিকে পশে সরিয়ে রাজবাড়ীর মধ্যে প্রবেশ করলো। ভেতরে লতানে ঘোপঝাড় এমন ভাবে রয়েছে যেন মনে হয় গত দশ বছরেও কেউ যে মধ্যে প্রবেশ করেনি। তারা প্রথমেই উঠোন পেরিয়ে বারান্দায় উঠলো, ঘরের দরজা জানলা গুলো জীর্ণ সার হয়ে ভেঙে পড়েছে। সুমিত ও সমর প্রথমেই যে ঘরটিতে প্রবেশ করল সেটি ছিল রাজবাড়ীর কাচারী ঘর, লোকমুখে সোনা যায় এই ঘরেই কোথাও গুপ্তধন লুকানো আছে। ঘরে ঢুকেই সুমিত এবং সময় দুজনেই যেদিক ওদিক খোঁজা খুঁজি শুরু করলো কিন্তু পুরোনো জীর্ণ দেয়াল ছাড়া কিছুই দেখতে পেলোনা। নিরাশ হয়ে পাশের ঘরে গেল দুজনেই, ওটি ছিল রাজবাড়ীর পুজোর ঘর. সেখানেও জীর্ণ ইটের দেয়াল ছাড়া কিছুই নেই যেদিক ওদিক চলা ফেরা করে খোঁজা খুঁজি করার সময় তারা দুজনেই টের পেলো যে মেঝের একটি অংশ হালকা ভাবে নড়াচড়া করছে যেমন বৃষ্টিতে ইটের রাস্তার ইট আলগা হয়ে নড়াচড়া করে। কৌতূহল বসত নড়েওঠা অংশটিকে ওঠাবার জন্যে হাত লাগলো, কিন্তু জীর্ণ এবং পুরোনো হলেও সেটিকে ওঠানো তাদের পক্ষে সম্ভব হলনা। একটা শাবল জাতীয় কিছু পেলে ভালো হতো সুমিত ভাবছিলো, তখনি ঘরের কোনে একটি ভাঙা জানলার গ্রিলের লোহার রড দেখতে পেয়ে সুমিত সেটিকে নিয়ে মেঝেটিকে চারা দিয়ে ওঠাবার চেষ্টা করলো, সমর ও তাতে হাত আগালো। দুজনের প্রচেষ্টায় এবার কাজ হলো। পাটাতনটি ওঠাতেই তারা দেখলো একটি সিঁড়ি অন্ধকারে নিচের দিকে নেমে গেছে। দুজনে দুজনের দিকে তাকালো। তারা সিদ্ধান্ত নিলো তারা দেখবে যেই সিঁড়িটি দিয়ে নিচে নেমে, কি নিচে কি আছে। তারা একটা টর্চ জোগাড় করে নিয়ে আসলো এবং নিচে নামার জন্য প্রস্তুত হলো। তাদের মনে নিচে কি আছে জানার জন্যে উৎকণ্ঠা চেপে ধরছিল। ভয় পাবার কথা তাদের মনেও ছিলোনা। একে একে দুজনেই সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলো, নিচে নেমেই তাদের সামনে একটি বিশাল লম্বা রাস্তা দেখা দিলো, যেটি ছিল সুড়ঙ্গের মতো গোল,চারিদিকে মাকড়সার জাল ও কিছু ইঁদুরের দেখা মিললো। সুমিত আর সমর দুজনেই সুড়ঙ্গটি ধরে বরাবর হেটে চললো, তারা আদৌ জানেনা যে এই রাস্তাটির শেষ কোথায় এটি তাদের কোথায় নিয়ে যাবে, তাদের মন নতুন কিছু পাবার নেশায় বুদ্। প্রায় পাঁচ মিনিট হাঁটার পর তারা এক জাগায় এসে থামলো যেখানে ঝোপঝাড় তাদের পথ রুদ্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে। সুড়ঙ্গে ঢোকার সময় তারা লোহার রড টিকে সাথে করে নিয়ে এসেছিলো সাপ পোকার হাত থেকে সুরক্ষা পাবার জন্যে সেটির সাহায্যে সুমিত আর সমর ঝোপ ঝড় সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতেই তারা সূর্যের আলো দেখতে পেলো। গুফা থেকে বেরোতেই তারা বাশ ঝড়ের মধ্যে প্রবেশ করলো। সামনেই নদী। তারা দুজনে বুঝতে পারলো তারা নদীর ওপর পারে পৌঁছে গেছে। তারা নদীর এই পারে বাঁশ ঝাড়ে অনেক বার এসেছে কিন্তু ঝোপ ঝড়ের জন্যে এই সুড়ঙ্গ টি কোনো দিন দেখা যায় নি। সুমিত আর সমর নতুন এই সুড়ঙ্গ পথটির খোঁজ পেয়ে খুশিতে নৃত্য করতে লাগলো। খুশিতে গ্রামের সকলকে গিয়ে যেই সুড়ঙ্গ পথটির কথা বললো। নিমিষে ওই সুড়ঙ্গ পথটির খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল এবং যেটি গ্রামের আকর্ষণে কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে উঠলো।
Comments
Post a Comment